সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাগীশিক হাটহাজারী উপজেলা সংসদের উদ্যোগে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের গীতা শিক্ষা কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন


 

বাগীশিক হাটহাজারী উপজেলা সংসদের উদ্যোগে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের গীতা শিক্ষা কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন




ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, গীতা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) হাটহাজারী উপজেলা সংসদ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন গীতা শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাগীশিক ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন সংসদের আওতাধীন একাধিক গীতা শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



পরিদর্শনকৃত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ছিল শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ গীতা শিক্ষালয়, মুক্তি প্রদায়িনী গীতা ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্র, মৈত্রী সংঘ গীতা শিক্ষা সংঘ, জ্ঞান মঞ্জুরী গীতা ও নৈতিক শিক্ষালয় এবং শ্রীশ্রী ওঁকার গীতা ও প্রাচ্য বিদ্যা নিকেতন শিক্ষা কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে নেতৃবৃন্দ পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।



পরিদর্শন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বাগীশিক হাটহাজারী উপজেলা সংসদের সভাপতি শ্রী চন্দন নাথ, সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী সুদীপ নাথ, প্রচার সম্পাদক শ্রী টিপলু নাথ। এছাড়াও বাগীশিক ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন সংসদের সভাপতি শ্রী গোকুল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক শ্রী মানিক নাথ, সহ-সম্পাদক জিকু শীল, সহ-সম্পাদক ইমন শীল, অর্থ সম্পাদক তন্ময় নাথ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঐরূপ শীলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং গীতা শিক্ষার গুরুত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা ও আদর্শ নাগরিক গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিক জীবন গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।



এ সময় বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা উপকরণের প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি, প্রশিক্ষিত শিক্ষক সংকট এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। নেতৃবৃন্দ সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনে সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন


বাগীশিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গীতা শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। বর্তমান প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে সুশিক্ষিত ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গীতা শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গীতা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বাগীশিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



পরিদর্শনের শেষে নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রগুলোর সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে গীতা শিক্ষার প্রসার এবং মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে এবং আগামী প্রজন্মকে আদর্শ, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাগীশিকের এ ধরনের পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Sanatan Dharma SD 



মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী উপলক্ষে মন্দাকিনী স্নান আগামী ১৬ মার্চ

  আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ ২০২৬খ্রি. সোম ও মঙ্গলবার প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের মহাতীর্থ মন্দাকিনী স্নান, শ্রীশ্রী শিব ও গঙ্গা পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তিযজ্ঞ, কবিগান এবং লোকজ মেলা হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত ফরহাদাবাদ মন্দাকিনী শ্রীশ্রী শিব মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ মার্চ শ্রীশ্রী গঙ্গা পূজা ও শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ শুভারম্ভ, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর মন্দাকিনী স্নান ও তর্পণ শুরু, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন,  ধর্মীয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিগান ও আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। ১৭ মার্চ মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীর বারুণী স্নান ও তর্পণ শুরু, শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি চণ্ডীযজ্ঞ শুভারম্ভ, বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমের মহাত্মা মহারাজ বৃন্দ, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী। ১৬ মার্চ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের মাননীয় এম.পি আলহাজ্ব মো. সরোয়ার আলমগীর। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠা...

হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে?

  হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে? উত্তর: এই ভারত উপমহাদেশে অহিন্দুদের ধর্ম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার ছিল হিন্দু মেয়ে বিবাহ করা। হাজার বছর আগে থেকে হিন্দু রাজাদের একের পর এক পরাজিত করে, তাদের স্ত্রী এবং কন্যাদের জোড় করে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করেছে। সাধারণ জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে। পরাধীন হিন্দুগণ জান-মালের ভয়ে, অস্তিত্ত্ব ও জীবন রক্ষার্থে অহিন্দুর ধর্ম গ্রহণ করেছে অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত। হিন্দু মেয়েদের জোর করে তোলে নিয়ে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করা, যেন ভাত খাওয়ার মত অবস্থা ছিল। বর্তমানেও বহু হিন্দু মেয়েদের একই পরিণীতি হচ্ছে। হয় তাদের জোড় করে তোলে নেওয়া হচ্ছে অথবা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিজেই চলে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজে পরেরটা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের এখন জানা দরকার, কেন এমন হচ্ছে, কি এর পরিণাম এবং কি এর সমাধান। কেন এমন হচ্ছে: ১। নিজের ধর্ম সম্পর্কে হিন্দু যুবক-যুবতীগণ একেবারেই অজ্ঞ। তাদের পরিবার থেকে সনাতন ধর্মীয় জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় না। তাদের শেখানো হয় না তোমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ' তোমাদের এ...

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। ছবি: সংগৃহীত   ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা একে ‘ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করেন ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি এই কংগ্রেসম্যান একে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রো খানা লেখেন, “বাংলাদেশে ২৭ বছর বয়সী হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনা ভয়াবহ। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের নিঃশর্তভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে।” এই মন্তব্য আসে ময়মনসিংহ জেলার বালুকা এলাকায় ঘটে যাওয়া দীপু দাসের ...