সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজ ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস.. বিস্তারিত জেনে নিন...


প্রকাশ:- ১৬ই ডিসেম্বর ২০২৫, ( মঙ্গলবার) 

Sanatan Dharma SD নিজস্ব প্রতিবেদন..


 শিরোনাম:- ১৬ই ডিসেম্বর: বিজয় মাসের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন? 


ভূমিকা


১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনটি আমাদের মহান বিজয় দিবস—যেদিন নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ডিসেম্বর মাস তাই বাঙালির কাছে ‘বিজয় মাস’ হিসেবে চিহ্নিত, যা ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।


মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি


১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪), ছয় দফা আন্দোলন (১৯৬৬), গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) — এসব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও দৃঢ় হয়।


১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। এরই পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন।


২৫শে মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা


১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায়। এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।


নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম


দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে অংশ নেন সাধারণ জনগণ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোন সম্ভ্রম হারান।


মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিবাহিনী চূড়ান্ত আঘাত হানে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয়ের মুখোমুখি হয়।


১৬ই ডিসেম্বর: বিজয়ের দিন


১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর ৯৩,০০০ সৈন্য যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।


বিজয় মাসের তাৎপর্য


ডিসেম্বর শুধু একটি মাস নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, আত্মত্যাগ ও বিজয়ের স্মারক। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা কখনো সহজে আসে না, এর পেছনে থাকে অগণিত প্রাণের ত্যাগ।


উপসংহার


১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জন্য শুধু উৎসবের দিন নয়, এটি শপথের দিন। শহীদদের আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেম, মানবতা ও ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাওয়াই বিজয় মাসের প্রকৃত শিক্ষা।


শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।


— Sanatan Dharma SD





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী উপলক্ষে মন্দাকিনী স্নান আগামী ১৬ মার্চ

  আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ ২০২৬খ্রি. সোম ও মঙ্গলবার প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের মহাতীর্থ মন্দাকিনী স্নান, শ্রীশ্রী শিব ও গঙ্গা পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তিযজ্ঞ, কবিগান এবং লোকজ মেলা হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত ফরহাদাবাদ মন্দাকিনী শ্রীশ্রী শিব মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ মার্চ শ্রীশ্রী গঙ্গা পূজা ও শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ শুভারম্ভ, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর মন্দাকিনী স্নান ও তর্পণ শুরু, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন,  ধর্মীয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিগান ও আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। ১৭ মার্চ মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীর বারুণী স্নান ও তর্পণ শুরু, শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি চণ্ডীযজ্ঞ শুভারম্ভ, বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমের মহাত্মা মহারাজ বৃন্দ, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী। ১৬ মার্চ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের মাননীয় এম.পি আলহাজ্ব মো. সরোয়ার আলমগীর। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠা...

হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে?

  হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে? উত্তর: এই ভারত উপমহাদেশে অহিন্দুদের ধর্ম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার ছিল হিন্দু মেয়ে বিবাহ করা। হাজার বছর আগে থেকে হিন্দু রাজাদের একের পর এক পরাজিত করে, তাদের স্ত্রী এবং কন্যাদের জোড় করে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করেছে। সাধারণ জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে। পরাধীন হিন্দুগণ জান-মালের ভয়ে, অস্তিত্ত্ব ও জীবন রক্ষার্থে অহিন্দুর ধর্ম গ্রহণ করেছে অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত। হিন্দু মেয়েদের জোর করে তোলে নিয়ে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করা, যেন ভাত খাওয়ার মত অবস্থা ছিল। বর্তমানেও বহু হিন্দু মেয়েদের একই পরিণীতি হচ্ছে। হয় তাদের জোড় করে তোলে নেওয়া হচ্ছে অথবা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিজেই চলে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজে পরেরটা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের এখন জানা দরকার, কেন এমন হচ্ছে, কি এর পরিণাম এবং কি এর সমাধান। কেন এমন হচ্ছে: ১। নিজের ধর্ম সম্পর্কে হিন্দু যুবক-যুবতীগণ একেবারেই অজ্ঞ। তাদের পরিবার থেকে সনাতন ধর্মীয় জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় না। তাদের শেখানো হয় না তোমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ' তোমাদের এ...

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। ছবি: সংগৃহীত   ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা একে ‘ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করেন ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি এই কংগ্রেসম্যান একে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রো খানা লেখেন, “বাংলাদেশে ২৭ বছর বয়সী হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনা ভয়াবহ। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের নিঃশর্তভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে।” এই মন্তব্য আসে ময়মনসিংহ জেলার বালুকা এলাকায় ঘটে যাওয়া দীপু দাসের ...