সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আমরা কেনো প্রিয় মানুষকে পাই না — শাস্ত্র মতে ব্যাখ্যা


 ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আমরা কেনো প্রিয় মানুষকে পাই না — শাস্ত্র মতে ব্যাখ্যা


মানবজীবনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদ—এসবই স্রষ্টার সূক্ষ্ম বিধান ও পূর্বকর্মের অদৃশ্য ফল। শাস্ত্র বলে, প্রত্যেক মানুষের জীবনে যেকোনো সম্পর্কই আকস্মিক নয়; তা জন্মজন্মান্তরের কর্মফল, ঋণ, দায় ও শেখার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।


১. পূর্বজন্মের কর্মফল (কর্ম-সংস্কার)


শাস্ত্র মতে, ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও প্রিয় মানুষকে না পাওয়া অনেক সময় অপূর্ণ কর্মফলের কারণে ঘটে। যার প্রতি আমাদের হৃদয় আকৃষ্ট হয়, হয়তো তার সাথে পূর্বজন্মে অসম্পূর্ণ কোনো সম্পর্ক বা ঋণ থেকে গেছে।

এই জন্মে সেই সম্পর্ক কেবল অনুভবের জন্য আসে, কিন্তু একসাথে থাকার জন্য নয়।


২. মায়া ও আসক্তির পরীক্ষা


শাস্ত্রে বলা আছে—

“যে আসক্তি হৃদয়কে পীড়া দেয়, তা ঈশ্বর মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য দেন।”

মানুষ কখনও কখনও সত্যিকারের প্রেমকে পায় না, কারণ সেই প্রেম তাকে জীবনের বড়ো কোনো শিক্ষার দিকে এগিয়ে দেয়—সহনশীলতা, আত্মসম্মান, ধৈর্য ও আত্মা-শুদ্ধির দিকে।


৩. ভাগ্য ও সময়ের অমিল


ভালোবাসা সত্যি হলেও সময় যদি অনুকূলে না থাকে, সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না।

শাস্ত্রে এর নাম—

‘দোষকাল’

অর্থাৎ, সঠিক সময়ের অভাবেই দু’জন মানুষ একে অন্যকে হারিয়ে ফেলে।


৪. প্রত্যেক মানুষের জীবনে নির্দিষ্ট সঙ্গী


হিন্দু শাস্ত্রে বলা আছে—

মানুষের জীবনে যে সঙ্গী নির্ধারিত, কেবল সেইজনই তার সাথে পথচলার জন্য সৃষ্টি।

কখনও আমরা যাকে চাই, সে আমাদের জন্য নয়;

আর যাকে পাই, সে হয়তো আমাদের আত্মার সঠিক সহযাত্রী।


৫. প্রেম কখনও কর্মফল, কখনও মোহ


অনেক সময় যে ভালোবাসাকে আমরা জীবন মনে করি, শাস্ত্র তাকে বলে ‘মোহ’।

মোহ হলে সম্পর্ক পূরণ হয় না, কারণ তা আত্মার জন্য কল্যাণকর নয়।

আর সত্যিকারের প্রেমে ঈশ্বর মিলন দেন—সময় লাগলেও।


৬. অন্যের সম্পর্ক বা দাম্পত্যে হস্তক্ষেপ


যদি প্রিয় মানুষ অন্য কারও বউ/স্বামী বা সঙ্গী হয়, শাস্ত্র অনুযায়ী সেই সম্পর্ক চাওয়া অধর্ম ও পাপফল সৃষ্টি করে।

এই কারণে অনেক সময় মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলেও সেই মানুষকে পাওয়া যায় না।

ঈশ্বর কারও সংসার ভাঙতে সমর্থন করেন না।



---


সংক্ষেপে


যাকে ভালোবাসি তাকে না পাওয়া সবসময় অভিশাপ নয়


এটি অনেক সময় আত্মার পরীক্ষা


পূর্বজন্মের অসম্পূর্ণতা


ভাগ্য ও সময়ের অমিল


মোহ বনাম সত্যিকারের প্রেম


এবং অন্যের দাম্পত্যে আসক্তির নিষেধ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী উপলক্ষে মন্দাকিনী স্নান আগামী ১৬ মার্চ

  আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ ২০২৬খ্রি. সোম ও মঙ্গলবার প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের মহাতীর্থ মন্দাকিনী স্নান, শ্রীশ্রী শিব ও গঙ্গা পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তিযজ্ঞ, কবিগান এবং লোকজ মেলা হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত ফরহাদাবাদ মন্দাকিনী শ্রীশ্রী শিব মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ মার্চ শ্রীশ্রী গঙ্গা পূজা ও শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ শুভারম্ভ, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর মন্দাকিনী স্নান ও তর্পণ শুরু, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন,  ধর্মীয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিগান ও আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। ১৭ মার্চ মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীর বারুণী স্নান ও তর্পণ শুরু, শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি চণ্ডীযজ্ঞ শুভারম্ভ, বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমের মহাত্মা মহারাজ বৃন্দ, আনন্দ বাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী। ১৬ মার্চ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের মাননীয় এম.পি আলহাজ্ব মো. সরোয়ার আলমগীর। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠা...

হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে?

  হিন্দু মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, এর সমাধান কি হতে পারে? উত্তর: এই ভারত উপমহাদেশে অহিন্দুদের ধর্ম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার ছিল হিন্দু মেয়ে বিবাহ করা। হাজার বছর আগে থেকে হিন্দু রাজাদের একের পর এক পরাজিত করে, তাদের স্ত্রী এবং কন্যাদের জোড় করে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করেছে। সাধারণ জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে। পরাধীন হিন্দুগণ জান-মালের ভয়ে, অস্তিত্ত্ব ও জীবন রক্ষার্থে অহিন্দুর ধর্ম গ্রহণ করেছে অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত। হিন্দু মেয়েদের জোর করে তোলে নিয়ে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করা, যেন ভাত খাওয়ার মত অবস্থা ছিল। বর্তমানেও বহু হিন্দু মেয়েদের একই পরিণীতি হচ্ছে। হয় তাদের জোড় করে তোলে নেওয়া হচ্ছে অথবা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিজেই চলে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজে পরেরটা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের এখন জানা দরকার, কেন এমন হচ্ছে, কি এর পরিণাম এবং কি এর সমাধান। কেন এমন হচ্ছে: ১। নিজের ধর্ম সম্পর্কে হিন্দু যুবক-যুবতীগণ একেবারেই অজ্ঞ। তাদের পরিবার থেকে সনাতন ধর্মীয় জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় না। তাদের শেখানো হয় না তোমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ' তোমাদের এ...

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা, “ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। ছবি: সংগৃহীত   ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা একে ‘ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করেন ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি এই কংগ্রেসম্যান একে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রো খানা লেখেন, “বাংলাদেশে ২৭ বছর বয়সী হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনা ভয়াবহ। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের নিঃশর্তভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে।” এই মন্তব্য আসে ময়মনসিংহ জেলার বালুকা এলাকায় ঘটে যাওয়া দীপু দাসের ...